রিটন আহমদ দিপু : :
সিলেট মহানগরীকে নীরব ঘাতক শব্দদূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং সড়কে তীব্র হর্নের রাজত্ব থামাতে একযোগে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তর। সম্প্রতি মহানগরের শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র্যাব)-৯ ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ বা বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনে অতিমাত্রায় শব্দদূষণের যন্ত্রণায় অতীষ্ট নগরবাসী।
জানা গেছে, র্যাব-৯ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তীব্র শব্দ সৃষ্টিকারী অননুমোদিত হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার অপরাধে ১১টি যানবাহনের চালক ও মালিককে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মোট অর্থদণ্ডের পরিমাণ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। অভিযানের সময় ক্ষতিকর হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়। সেগুলো অভিযানস্থলে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ধ্বংস করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অধিক শব্দ সৃষ্টি করায়- শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এ দণ্ড দেওয়া হয়। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
র্যাব-৯ এর মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অধিক শব্দ সৃষ্টিকারী এবং নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয়। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে আমাদের এই যৌথ অ্যাকশন ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।’
অভিযানের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, ‘শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতক যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও হাসপাতালের রোগীরা এর ফলে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।’
এদিকে অভিযানের সময় উপস্থিত সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন।
পথচারী ও স্থানীয় কলেজ শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তায় বের হলে হর্নের আওয়াজে কানে মারাত্মক সমস্যা হয়। অনেক সময় রিকশায় বা হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ পেছনে তীব্র হর্ন বাজালে বুক কেঁপে ওঠে। প্রশাসনের এমন অভিযান শুধু একদিনের জন্য না করে নিয়মিত করা উচিত।’
আরেক পথচারী, বেসরকারি চাকরিজীবী সুমি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং দূরপাল্লার বাসগুলো মোড়গুলোতে জ্যামে দাঁড়িয়েও অনবরত হর্ন বাজাতে থাকে। হাসপাতালের সামনেও এদের কোনো খেয়াল থাকে না। আজকের মতো নিয়মিত গাড়ি থামিয়ে জরিমানা করা হলে চালকদের মধ্যে ভয় কাজ করবে এবং হর্ন বাজানো কমবে।’
র্যাব-৯ ও পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালকদের শুধু জরিমানা বা শাস্তিপ্রদানই মুখ্য নয়। তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার অভিপ্রায়ে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। এটিও পর্যায়ক্রমে আরও বড় পরিসরে পরিচালনার লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে সিলেটসহ সারাদেশে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শব্দদূষণ কমানোর লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক বাহন, উদ্ধারকাজে নিয়োজিত যানবাহন এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি দায়িত্ব পালনকারী যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে বহুমুখী হর্ন, হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার বা ভীতিকর শব্দ উৎপন্নকারী কোনো হর্ন স্থাপন কিংবা ব্যবহার করা যাবে না।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অননুমোদিত উচ্চ শব্দের হর্ন সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি এবং প্রবীণদের জন্য গুরুতর অসুবিধার সৃষ্টি করছে। এ কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের হর্ন ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জনস্বার্থে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনের চালক ও মালিকদের এ নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আমাদের সম্পর্কে মো. নজরুল ইসলাম কর্তৃক বিসমিল্লাহ অফসেট প্রিন্টিং প্রেস লালদীঘিরপার, সিলেট থেকে মৃদ্রিত ও বিসিক শিল্পনগরী, গোটাটিকর, সিলেট খেকে প্রকাশিত। সম্পাদক : চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম। যোগাযোগ -কার্যালয় : ফিজা টাওয়ার, বিসিক শিল্পনগরী. গোটাটিকর, সিলেট ই-মেইল(বিজ্ঞাপন): barta.ekattor@gmail.com, ekattor.ad@gmail.com ফোন:+৮৮০১৭৬৬১২১২৯৫, +৮৮০১৭১১৯৪০৫০৯
Copyright © 2026 দৈনিক একাত্তরের কথা. All rights reserved.