বিনোদন ডেস্ক : :
অ্যাকশন সিনেমার সংজ্ঞা বদলে দেওয়া কিংবদন্তি অভিনেতা জ্যাকি চ্যানের আজ জন্মদিন। ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল হংকংয়ে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার আসল নাম চ্যান কং-সাং। ভক্তদের কাছে তিনি ‘সিং লুং’ বা ‘কুংফু কমেডি কিং’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সাহসী স্টান্ট ও ভিন্নধর্মী অভিনয়ের জন্য তিনি এই খ্যাতি অর্জন করেছেন।
মাত্র সাত বছর বয়সে জ্যাকির বাবা-মা তাকে হংকংয়ে রেখে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। কমিউনিস্ট শাসন থেকে বাঁচতে তারা পালিয়ে গিয়ে আমেরিকান দূতাবাসে কাজ শুরু করেন। তার বাবা ফ্যাং দাওলাং অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তাকে গুপ্তচর বলেও ধারণা করা হয়। অন্যদিকে তার মা একসময় আফিম চোরাচালানের অভিযোগে গ্রেফতার হন এবং সাংহাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়।
জ্যাকি চ্যান অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরার ডিকসন কলেজে পড়াশোনা করেন। একসময় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ক্যানবেরার সেই নির্মাণ সাইটেই সহকর্মীরা তার নাম উচ্চারণে সমস্যার কারণে তাকে ‘জ্যাকি’ নামে ডাকতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে তার পরিচিতি হয়ে ওঠে।
২০০৯ সালে চীন সরকার তাকে মাদকবিরোধী দূত হিসেবে নিযুক্ত করে। তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং অবৈধ মাদক নির্মূলের বিষয়ে কঠোর অবস্থান সমর্থন করেন। পর্দায় খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় না করার একটি নীতি রয়েছে তার। এই কারণে ‘লিথাল ওয়েপন ৪’, ‘দ্য ডেমোলিশন ম্যান’ এবং ‘দ্য ওয়ান’-এর মতো সিনেমার প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দেন।
জ্যাকি চ্যান একজন দক্ষ গায়কও। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অপেরা শিল্পী হিসেবে তিনি চীনে জনপ্রিয় পপ তারকা হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৪ সাল থেকে প্রায় ২০টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন এবং নিজের সিনেমায় গান গেয়েছেন। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের কাউন্টডাউন গানেও তিনি কণ্ঠ দেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সফল উদ্যোক্তা। তার নিজস্ব পোশাকের ব্র্যান্ড, রেস্টুরেন্ট চেইন, প্রযোজনা সংস্থা ও সিনেমা হল রয়েছে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০০ থেকে ৫৫৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়।
১৯৮১ সালে তাইওয়ানিজ অভিনেত্রী জোয়ান লিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং ১৯৮২ সালের ডিসেম্বরে লস অ্যাঞ্জেলেসে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পরদিনই তাদের ছেলে জয়সি চ্যানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে এলাইন এনজি ই-লির সঙ্গে তার সম্পর্কের ফলে ১৯৯৯ সালে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
জ্যাকি চ্যানের দখলে রয়েছে সবচেয়ে বেশি স্টান্ট করার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। তার স্টান্টগুলো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে অনেক বীমা কোম্পানি তার সিনেমার বিমা করতে রাজি হয় না। তিনি কিংবদন্তি ব্রুস লিকে আদর্শ মানতেন এবং ক্যারিয়ারের শুরুতে তার সিনেমায় স্টান্টম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন।
স্টান্ট করতে গিয়ে তিনি অন্তত ৭০ বার আঘাত পেয়েছেন। আশির দশকে ‘আর্মার অব গড’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় মারাত্মক দুর্ঘটনায় তার মাথায় স্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৬ সালে তাকে সম্মানসূচক অস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া তার নাম খোদাই করা রয়েছে হলিউড ওয়াক অব ফেমে।
AD/একাত্তরের কথা
আমাদের সম্পর্কে মো. নজরুল ইসলাম কর্তৃক বিসমিল্লাহ অফসেট প্রিন্টিং প্রেস লালদীঘিরপার, সিলেট থেকে মৃদ্রিত ও বিসিক শিল্পনগরী, গোটাটিকর, সিলেট খেকে প্রকাশিত। সম্পাদক : চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম। যোগাযোগ -কার্যালয় : ফিজা টাওয়ার, বিসিক শিল্পনগরী. গোটাটিকর, সিলেট ই-মেইল(বিজ্ঞাপন): barta.ekattor@gmail.com, ekattor.ad@gmail.com ফোন:+৮৮০১৭৬৬১২১২৯৫, +৮৮০১৭১১৯৪০৫০৯
Copyright © 2026 দৈনিক একাত্তরের কথা. All rights reserved.