সিলেটসহ ৬৪ জেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন
মিসবাহ উদ্দীন আহমদ ::
দেশে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং নতুন ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন করা হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি। শনিবার বৃষ্টিস্নাত দিনের শেষে উজ্জ্বল বিকেলে সিলেট নগরীর জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজনটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদে বন্ধুরা তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তোমাদের মধ্যে থেকেই নেতৃত্ব তৈরি হবে। আমি চাই, যারা গ্যালারিতে আছো তোমরা একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হবে। একদিন দেশের দায়িত্ব তোমাদেরকেই নিতে হবে, তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ।’
শিক্ষার্থীদের ‘প্রধান অতিথি’ সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থীসহ দেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বলছি। তোমরাই আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি।’’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। বাংলাদেশে তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে ইনশাল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেককে সঠিকভাবে গড়ে উঠতে হবে। তবেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যতো ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ ততো সুন্দরভাবে শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।’
এসময় স্টেডিয়ামের গ্যালারিজুড়ে ছিল শিশু-কিশোরদের মিলনমেলা। মূলমাঠে ছিলো শিশু-কিশোরদের নজরকাড়া উপস্থিতি; সকলেই দলবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীর সামনে নিজেদের ক্রীড়ানৈপুন্য প্রদর্শন করেন।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর প্রামাণ্য চিত্র স্টেডিয়ামে স্থাপনকৃত বড়পর্দায় প্রদর্শন করা হয়। ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং প্রচার করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্টেডিয়ামের মূলমাঠে প্রবেশ করেই প্রধানমন্ত্রী গ্যালারি ও মাঠে থাকা ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় এবং জাতীয় পতাকা ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের পতাকা উড্ডয়ন করা হয়।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’- স্লোগানকে সামনে রেখে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে দেশের অন্যান্য জেলা স্টেডিয়াম থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন ক্ষুদে ক্রীড়াবিদরা।
শিক্ষার্থীদের তুমুল করতালির মধ্যে তারেক রহমান বলেন, আজ বক্তৃতা দিতে ইচ্ছা করছে না। মনে হচ্ছে তোমাদের সাথে কথা বলি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পড়তে হবে, আর খেলতে হবে। নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায়, সে খেলোয়াড় হবে। একই সাথে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে। সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাল্লাহ করব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। বাংলাদেশকে তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা কী পারবে?’
এই সময়ে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলেছে, ‘হ্যাঁ পারবো।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি তোমরা অবশ্যই সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।’
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে আসলো সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে আসলো সেই গল্পটা আমি বলব। সাড়ে চার বছর হবে আগের কথা। আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে। একদিন আমরা বসে আড্ডা দিচ্ছি। আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ। স্পোর্টস নিয়ে কথাবার্তা হল। আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে ঠিক করলাম নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করবো বাংলাদেশে।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুরুর আগে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, কাবাডি, ফুটবল, অ্যাথলেটিঙ্, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আটর্সসহ ৮টি ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন, করতালি দেন। বক্তব্য শেষ করার পর তিনি মাঠে থাকা প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন। পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী সিলেটের মেয়ে ডা. জুবাইদা রহমানও ছিলেন। তবে তিনি বক্তব্য রাখেননি।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদপ্তর। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভার অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এ উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য রাখেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘এটা একটি যুগান্তরকারী কর্মসূচি। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ভবিষ্যত প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় তৈরিতে একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।’
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়) হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, সিলেট-৩ আসনের এম এ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদল ও শ্রমিকদলের নেতাকর্মীরা।
একাত্তরেরকথা/এম
আমাদের সম্পর্কে মো. নজরুল ইসলাম কর্তৃক বিসমিল্লাহ অফসেট প্রিন্টিং প্রেস লালদীঘিরপার, সিলেট থেকে মৃদ্রিত ও বিসিক শিল্পনগরী, গোটাটিকর, সিলেট খেকে প্রকাশিত। সম্পাদক : চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম। যোগাযোগ -কার্যালয় : ফিজা টাওয়ার, বিসিক শিল্পনগরী. গোটাটিকর, সিলেট ই-মেইল(বিজ্ঞাপন): barta.ekattor@gmail.com, ekattor.ad@gmail.com ফোন:+৮৮০১৭৬৬১২১২৯৫, +৮৮০১৭১১৯৪০৫০৯
Copyright © 2026 দৈনিক একাত্তরের কথা. All rights reserved.