একাত্তর ডেস্ক : :
দেশে জ্বালানি তেল খাতে অস্থিরতা, অপচয় ও মজুতদারি রোধে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
ফুয়েল কার্ড মূলত একটি বিশেষ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে পেট্রোল, ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি ক্রয় করা যাবে। এটি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মতো ব্যবহারযোগ্য হলেও এর মাধ্যমে জ্বালানির ব্যবহার নির্ধারণ, ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ বড় চাপের মুখে পড়তে পারে। এরই মধ্যে অসাধু চক্রের মাধ্যমে তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পাম্পে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে মজুতদারদের ভূমিকা রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত ‘ফুয়েল কার্ড’ ব্যবস্থাকে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকের জন্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। প্রতিটি কার্ডে থাকবে কিউআর কোড, যা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়া যাবে।
ফুয়েল কার্ডে যে সুবিধাগুলো মিলবে :
১. সহজ ও নিরাপদ লেনদেন:
কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ ছাড়াই সহজে জ্বালানির মূল্য পরিশোধ করা যাবে, ফলে অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে।
২. খরচ নিয়ন্ত্রণ:
নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ থাকায় অপচয় কমবে। পাশাপাশি ডিজিটাল রিপোর্টের মাধ্যমে ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
৩. বাড়তি নিরাপত্তা:
প্রতিটি কার্ড নির্দিষ্ট যানবাহন বা ব্যবহারকারীর সঙ্গে যুক্ত থাকবে, ফলে চুরি বা অপব্যবহার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
৪. মজুতদারি প্রতিরোধ:
কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সব লেনদেন সংরক্ষিত থাকায় অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে অবৈধ মজুত করা কঠিন হবে।
৫. সময় ও ঝামেলা কমানো:
কাগজভিত্তিক হিসাবের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন সংরক্ষণ হবে, যা সময় সাশ্রয় করবে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পুরোপুরি এই ব্যবস্থা চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বাস্তবায়ন হলে দেশের জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং অসাধু চক্রের কারসাজি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
AD/একাত্তরের কথা
আমাদের সম্পর্কে মো. নজরুল ইসলাম কর্তৃক বিসমিল্লাহ অফসেট প্রিন্টিং প্রেস লালদীঘিরপার, সিলেট থেকে মৃদ্রিত ও বিসিক শিল্পনগরী, গোটাটিকর, সিলেট খেকে প্রকাশিত। সম্পাদক : চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম। যোগাযোগ -কার্যালয় : ফিজা টাওয়ার, বিসিক শিল্পনগরী. গোটাটিকর, সিলেট ই-মেইল(বিজ্ঞাপন): barta.ekattor@gmail.com, ekattor.ad@gmail.com ফোন:+৮৮০১৭৬৬১২১২৯৫, +৮৮০১৭১১৯৪০৫০৯
Copyright © 2026 দৈনিক একাত্তরের কথা. All rights reserved.