
রিটন আহমদ দিপু::
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ‘সিলেটি জামাইকে বরণ’ করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে পুরো সিলেট নগরী। শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথজুড়ে চলছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য্যবর্ধন কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের অবহেলায় কিছুটা মলিন হয়ে পড়া নগরী এখন যেন ফিরে পাচ্ছে তার হারানো জৌলুস।
নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সড়কের দুই পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, নিয়মিত ঝাড়ু প্রদান এবং ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কারের ফলে শহরের পরিবেশে এসেছে স্বস্তি। জলাবদ্ধতা কমাতে অনেক স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ। ফুটপাতগুলো থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের ফলে পথচারীদের চলাচল এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নির্বিঘ্ন।
শুধু পরিচ্ছন্নতাই নয়, নগরীর নান্দনিকতা বৃদ্ধির দিকেও দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। সড়ক বিভাজক, ফুটপাত, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নতুন করে রং করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে রঙিন ফুলের টব এবং সড়কের পাশে লাগানো হয়েছে নতুন গাছ। পুরনো গাছপালা ছাঁটাই করে শহরকে আরও গোছানো ও সবুজ করে তোলার উদ্যোগও দৃশ্যমান।
নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে টানানো হয়েছে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। বিশেষ করে শহরের প্রবেশপথগুলোতে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্বাগত গেট, যা আগত অতিথি ও নেতাকর্মীদের আকৃষ্ট করছে। আলোকসজ্জার ছোঁয়ায় সন্ধ্যার পর সিলেট নগরী যেন এক অন্য রূপ ধারণ করছে-প্রধান সড়কগুলো ঝলমল করছে রঙিন আলোয়, সৃষ্টি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমন পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল সিলেট তারা অনেকদিন পর দেখছেন। অনেকেই বলছেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ যদি সারা বছরই অব্যাহত থাকত, তাহলে শহরের চেহারা আরও উন্নত হতো।’ তরুণদের মধ্যে এই পরিবর্তন নিয়ে দেখা গেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস, আর বয়োজ্যেষ্ঠরা এটিকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, নগরীর সৌন্দর্য্যবর্ধনের ফলে ক্রেতাদের আগমন বেড়েছে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশও হয়েছে আরও প্রাণবন্ত। পরিচ্ছন্ন ও সাজানো-গোছানো শহর শুধু বাসিন্দাদের জন্যই নয়, বরং বাইরের দর্শনার্থীদের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।
তবে সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ যেন সাময়িক না হয়ে স্থায়ীরূপ পায়। তারা মনে করেন, নগর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য্যবর্ধন কার্যক্রমকে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনা উচিত। নিয়মিত তদারকি ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ ধরনের পরিবর্তন টিকিয়ে রাখা কঠিন।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু শহরের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি পায়নি বরং নাগরিকদের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতার একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আরও সচেতন হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমান-এর আগমনকে ঘিরে ‘সিলেটি জামাইকে’ বরণ করার এই ব্যাপক প্রস্তুতি সিলেট নগরীকে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়-এই পরিবর্তন কতোট স্থায়ী হয় এবং তা নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সিলেটবাসী তাদের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। প্রধানমন্ত্রী সেটা অনুধাবন করছেন। এবার ইনশাআল্লাহ এই বঞ্চনার অবসান হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত কাক্সিক্ষত। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম সিলেট সফর। আমরা তাঁর আগমনকে স্বাগত জানাই এবং সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আমাদের সম্পর্কে মো. নজরুল ইসলাম কর্তৃক বিসমিল্লাহ অফসেট প্রিন্টিং প্রেস লালদীঘিরপার, সিলেট থেকে মৃদ্রিত ও বিসিক শিল্পনগরী, গোটাটিকর, সিলেট খেকে প্রকাশিত। সম্পাদক : চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম। যোগাযোগ -কার্যালয় : ফিজা টাওয়ার, বিসিক শিল্পনগরী. গোটাটিকর, সিলেট ই-মেইল(বিজ্ঞাপন): barta.ekattor@gmail.com, ekattor.ad@gmail.com ফোন:+৮৮০১৭৬৬১২১২৯৫, +৮৮০১৭১১৯৪০৫০৯
Copyright © 2026 দৈনিক একাত্তরের কথা. All rights reserved.