
একাত্তর ডেস্ক ::
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে টানা অতিবৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ায় হাওরের বুক এখন শুধু পানি আর পানি, যে জমিতে কৃষক সোনালি ধানের স্বপ্ন বুনেছিলেন, সেই জমিই এখন পরিণত হয়েছে বিশাল জলরাশিতে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। তবে হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে এর একটি বড় অংশ পানির নিচে চলে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত চৈত্র মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিলাবৃষ্টি, যা ফসলের ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জলসুখা ইউনিয়নের নোয়াগড় হাওরে একটি বাঁধ রক্ষায় কয়েকদিন ধরে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে দিন-রাত কাজ করছিলেন। মাটি ফেলে বাঁধটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও বুধবার হঠাৎ করে বাঁধটির একটি অংশ ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা বাঁশের আড়া ও বস্তায় মাটি ভরে তা রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু এরই মধ্যে হাওরে পানি ঢুকে শত শত কিয়ার জমি তলিয়ে যায়।
অন্যদিকে কাকাইলছেও ইউনিয়নের আনন্দপুর হাওরেও পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দু-একদিনের মধ্যেই পুরো হাওর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এর মধ্যে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বদলপুর ইউনিয়নের মাইঝ বন, দারগা বন ও দড়ারভাট বন হাওরে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়, যাতে পাকা ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। পরে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবারও কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বদলপুর ইউনিয়নের পিঠুয়াকান্দি হাওর ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক ক্ষেতের ধান সম্পূর্ণ পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও শুধু ধানের শীষের আগা দেখা যাচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় সেটুকুও নেই। পানির স্রোত ও জলাবদ্ধতায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল।
শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে অনেক কৃষক কোমর পানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, চোখের সামনে আমার সব শেষ হয়ে গেল। এই ধানই ছিল আমার বছরের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, হাওরের পানি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। হাওরের এই পরিস্থিতি কৃষকের সারাবছরের পরিশ্রম ও স্বপ্নকে পানির নিচে তলিয়ে দেওয়ার মতোই বেদনাদায়ক।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, নোয়াগড় হাওরে প্রায় ৮০ হেক্টর এবং কাকাইলছেও ইউনিয়নে ৪ হেক্টর জমি নিমজ্জিত ও আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধানের প্রায় ৫ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
আমাদের সম্পর্কে মো. নজরুল ইসলাম কর্তৃক বিসমিল্লাহ অফসেট প্রিন্টিং প্রেস লালদীঘিরপার, সিলেট থেকে মৃদ্রিত ও বিসিক শিল্পনগরী, গোটাটিকর, সিলেট খেকে প্রকাশিত। সম্পাদক : চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম। যোগাযোগ -কার্যালয় : ফিজা টাওয়ার, বিসিক শিল্পনগরী. গোটাটিকর, সিলেট ই-মেইল(বিজ্ঞাপন): barta.ekattor@gmail.com, ekattor.ad@gmail.com ফোন:+৮৮০১৭৬৬১২১২৯৫, +৮৮০১৭১১৯৪০৫০৯
Copyright © 2026 দৈনিক একাত্তরের কথা. All rights reserved.