একাত্তর ডেস্ক : :
২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন। প্রবাস খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি সম্প্রসারণে সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নতুন শ্রমবাজার খোঁজা ও জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজার—মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মী পাঠাতে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, সিসেলস, পর্তুগাল ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত কর্মী পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে ১৮টি দেশের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত রয়েছে।
জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইএম-জাপানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় বিনা খরচে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন পাঠানো হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে বড় পরিসরে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ভাষা শিক্ষা জোরদার করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ৬টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এক লাখ দক্ষ চালক তৈরির প্রকল্পসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ফিজি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্বল্প বা বিনা খরচে কর্মী পাঠানো হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা প্রশিক্ষণ এবং স্কিল টেস্টিংয়ের মাধ্যমে কর্মীদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রবাস খাতকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে সরকার এর সম্প্রসারণে বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
AD/একাত্তরের কথা



















