Ekattorer Kotha
রবিবার , ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আলোচিত
  5. ইপেপার
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. দেশের ভেতরে
  13. প্রবাসের কথা
  14. প্রযুক্তি
  15. প্রেসবক্স

শমশেরনগর চা বাগানে চিকিৎসা সংকটে ৫ জনের মৃত্যু

অভিযোগ চা শ্রমিকদের

                       

এপ্রিল ১২, ২০২৬
                   

একাত্তর ডেস্ক ::

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগান এলাকায় অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল টানা ১৬ দিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম চিকিৎসা সংকট দেখা দিয়েছে। এ সময় চিকিৎসা না পেয়ে পাঁচজন চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৬ মার্চ থেকে হাসপাতালটির সব ধরনের সেবা বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় চা শ্রমিকদের অভিযোগ, জরুরি চিকিৎসা না পাওয়ায় বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা মৃত্যুবরণ করছেন এবং সাধারণ রোগীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন জানান, পালকিছড়া চা বাগানের রুমি ভর (২৩), কানিহাটি চা বাগানের মাধুরী তেলী (৪০), লক্ষীমুনি তেলী (৮০) এবং আলীনগর চা বাগানের রাজদেব কৈরী (৫৮)সহ মোট পাঁচজন চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।

তিনি বলেন, “হাসপাতাল বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা জরুরি।”

হাসপাতাল বন্ধের সূত্রপাত ঘটে ২৬ মার্চ ঐশি রবিদাস (১৩) নামের এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। মাথাব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া ঐশির অবস্থার অবনতি হলে তাকে জেলা সদরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে পরিবার না নেওয়ায় পরদিন হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।

এরপর ক্ষুব্ধ একদল লোক হাসপাতালে হামলা চালায় এবং চিকিৎসক ও কর্মীদের হেনস্তা করে বলে জানা যায়। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে চিকিৎসক ও কর্মীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন এবং পুরো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

চা শ্রমিকরা জানান, এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চা বাগান এলাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করে দ্রুত হাসপাতাল চালু করা উচিত ছিল।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত হাসপাতাল চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া হাসপাতাল পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। এদিকে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় চা শ্রমিক পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

সর্বশেষ - জাতীয়