একাত্তর ডেস্ক : :
দেশে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অবৈধ মজুত ও চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৪২৫ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করেছে সংস্থাটি।
বিজিবির সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ফেনী, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়। এর আগে ২০২৪ সালে ১৩ হাজার ১৭৭ লিটার এবং ২০২৫ সালে ৩০ হাজার ৯২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে গত তিন বছরে ৪৩ হাজার ২৬৯ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ তেল মজুতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে বিজিবির নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর একটি দল তারাবো কাজীপাড়া এলাকায় দুটি গুদামে অভিযান চালায়।
অভিযানে ৯টি ব্যারেলে সংরক্ষিত প্রায় ২ হাজার লিটার খোলা সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় বাজার থেকে তেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুত ও বোতলজাত করে ‘বন্ধন প্লাস’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ নামে স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল।
বিজিবি জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকারের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোজ্যতেল পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহন, নৌযান ও সীমান্তবর্তী গুদামে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসচেতনতা বাড়াতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি বলছে, অবৈধ মজুত ও চোরাচালান বন্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে সীমান্তের বাইরে গিয়েও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
AD/একাত্তরের কথা



















