Ekattorer Kotha
শনিবার , ৪ এপ্রিল ২০২৬ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আলোচিত
  5. ইপেপার
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. দেশের ভেতরে
  13. প্রবাসের কথা
  14. প্রযুক্তি
  15. প্রেসবক্স

বাঁশেই ভবিষ্যৎ ড্রোন প্রযুক্তি: চীনের উদ্ভাবনে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান

                       

এপ্রিল ৪, ২০২৬
                   

দশদিক ডেস্ক : :

ড্রোন প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে চীন। পরিবেশবান্ধব ও কম খরচের সমাধান খুঁজতে গিয়ে দেশটির গবেষকরা তৈরি করেছেন বিশ্বের প্রথম ‘বাঁশের তৈরি ড্রোন’। একইসঙ্গে এই ড্রোন পরিচালনার জন্য উন্মুক্ত (ওপেন-সোর্স) ফ্লাইট কন্ট্রোল সফটওয়্যারও বিশ্বব্যাপী বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য করে দেওয়া হয়েছে।

চীনের নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি-এর একদল বিজ্ঞানী এই উদ্ভাবন করেছেন। তাদের এই উদ্যোগ প্রযুক্তি বিশ্বে টেকসই উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত ড্রোন তৈরিতে কার্বন ফাইবার বা প্লাস্টিকের মতো ব্যয়বহুল উপকরণ ব্যবহার করা হয়। তবে গবেষকরা সহজলভ্য ও পরিবেশবান্ধব বাঁশকে বেছে নিয়ে খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার দিকটিও নিশ্চিত করেছেন। তাদের দাবি, বাঁশের তৈরি ড্রোন শুধু হালকা নয়, বরং যথেষ্ট মজবুতও।

তবে এই উদ্ভাবনের পথে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কম্পনজনিত সমস্যা। বাঁশে ৮-২০ হার্টজের নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সির কম্পন তৈরি হয়, যা প্রচলিত ড্রোন কন্ট্রোল সিস্টেমের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করে। এ সমস্যা সমাধানে গবেষকরা বিশেষ ফ্লাইট কন্ট্রোল বোর্ড এবং উন্নত অ্যালগরিদম তৈরি করেছেন। এর ফলে ড্রোনের সাড়া দেওয়ার সময় (রেসপন্স টাইম) ১৫-২০ মিলিসেকেন্ড থেকে কমে ৮-১০ মিলিসেকেন্ডে নেমে এসেছে।

এই প্রযুক্তির প্রধান তিনটি দিক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—

১। এটি পরিবেশবান্ধব; প্লাস্টিক ও কৃত্রিম উপাদানের ব্যবহার কমায়।
২। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এটি সহজলভ্য।
৩। সফটওয়্যার উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্বের যেকোনো গবেষক এই প্রযুক্তিকে উন্নত করার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এই ধরনের সাশ্রয়ী ড্রোন ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি হতে পারে একটি কার্যকর প্রযুক্তিগত সমাধান।

চীনা গবেষকদের এই উদ্ভাবন দেখিয়ে দিল, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয় ঘটাতে পারলে টেকসই ভবিষ্যতের পথে বড় অগ্রগতি সম্ভব।

সর্বশেষ - ইপেপার