একাত্তর ডেস্ক ::
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার নোয়াল গলগলিয়া হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।
জানা গেছে, নোয়াল গলগলিয়া হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বর্ধিত গুরমা প্রকল্পের ভেতরে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে এটি বোর্ডের আওতার বাইরে রয়েছে। ফলে প্রতি বছর বোরো ফসল রক্ষায় অনিশ্চয়তায় পড়তে হয় কৃষকদের।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হুকুমপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ জানান, নোয়াল গলগলিয়া হাওরে প্রায় দুই হাজার কিয়ার জমি রয়েছে। গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি কিয়ার জমির জন্য কৃষকদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে, যা দিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে।
উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রামসিংহপুর, হুকুমপুর ও লামাগাঁও গ্রামের কৃষকদের জমি রয়েছে এই হাওরে। কৃষকরা জানান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সহায়তার জন্য আবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিতে পাটলাই ও বৌলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল রক্ষায় প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন তারা। বর্তমানে প্রায় ১৬০ জন কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে টানা ১০ দিন ধরে কাজ করছেন। আরও দুই দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
কৃষকদের কাছ থেকে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে জিও টেক্সটাইল কাপড়, বাঁশ ও চাটাই কেনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত কৃষকরাই বাঁধটি তদারকি করবেন।
সম্প্রতি টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নোয়াল গলগলিয়া হাওরের বাঁধ নির্মাণ কাজ দেখতে পান। এ সময় শ্রমিকরা তাদের বিষয়টি অবগত করেন। পরে কর্মকর্তারা কৃষকদের আগামী নভেম্বর মাসে হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নেওয়ার জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, নোয়াল গলগলিয়া হাওরে কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। কৃষকদের আবেদন পাওয়ার পর কারিগরি দল পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে এবং যৌক্তিক হলে হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নেওয়া হবে।




















