একাত্তর ডেস্ক ::
দেশে জনস্বাস্থ্যের প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণেই হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতির অনেকটাই এড়ানো সম্ভব ছিল।
সোমবার সকালে সিলেট নগরীর সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন–২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারকে ধারাবাহিকভাবে জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। প্রথমে সীমিত আকারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়, বর্তমানে হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের ১৪টি স্থানে একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরাসরি অংশগ্রহণ সরকারের জনস্বাস্থ্যের প্রতি অঙ্গীকারকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
সিলেটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সদর হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৪০৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে সুস্থতার হার ৯৯ শতাংশের বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জরুরি ভিত্তিতে ১০ শয্যার পেডিয়াট্রিক আইসিইউ চালু করেছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান টিকাদান কার্যক্রম, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুতই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করতেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সিলেটে ২৫০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু, সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সড়ক ও সেতুর মতো অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক সূচকে পিছিয়ে থাকা সিলেটকে এগিয়ে নিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাতৃদুগ্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশুই যেন এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি টিকাদান কর্মসূচিতে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলামসহ ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা।
এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



















