Ekattorer Kotha
রবিবার , ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আলোচিত
  5. ইপেপার
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. দেশের ভেতরে
  13. প্রবাসের কথা
  14. প্রযুক্তি
  15. প্রেসবক্স

ছাতকে জ্বালানি সংকটে নৌযান চলাচল স্থবির

                       

এপ্রিল ১৯, ২০২৬
                   

একাত্তর ডেস্ক ::
সুনামগঞ্জের ছাতকে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে নৌপরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় সুরমা নদীতে নৌযান চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং শতাধিক নৌকা, বাল্কহেড ও কার্গো নদীর তীরে নোঙর করে অলস পড়ে আছে।

ছাতক নৌবন্দর থেকে প্রতিদিন শতাধিক নৌযান বালু, পাথর, সিমেন্ট ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করত। ব্রিটিশ আমল থেকে সিমেন্ট ও পাথরের ব্যবসার জন্য খ্যাত ছাতকে এখন দৈনিক পাঁচ শতাধিক নৌযান চলাচল করলেও সংকটের কারণে তা অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে।

শুক্রবার লাফার্জ ঘাট ও মধ্যবাজার নৌবন্দর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সুরমা নদীর তীরে বেশ কয়েকটি বালু-পাথরবাহী নৌকা ও বাল্কহেড সারিবদ্ধভাবে নোঙর করা। অনেক মাঝি দু’দিন থেকে চারদিন ধরে ডিজেলের অপেক্ষায় বসে আছেন।

এমভি সৈয়দ আবদুর রইফ শাহ নৌকার মাঝি মানিক মিয়া বলেন, “ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেল চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। আগে ২০ হাজার টাকায় ব্যারেল ডিজেল কিনতাম, এখন ২৫ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।”

এমভি এসইমিলি কার্গোর মাস্টার হোসাইন শেখ জানান, পাম্পে গেলে বলা হয় তেল নেই, বাইরে থেকে কিনলে দাম অনেক বেশি। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং নদীতে নৌযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ নৌপরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি এনামুল হক এলেমান বলেন, স্থানীয় তেল ব্যবসায়ীরা প্রতি লিটার ডিজেল ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে মালিক-শ্রমিক উভয়ই মহাবিপাকে পড়েছেন।

ছাতক থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তেল বিক্রিতে মনিটরিংয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোম্যাসি চাকমা জানান, প্রতিটি পাম্পে নজরদারি চলছে। কেউ অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটার কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিন চালাতেও ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করছেন।

বালু-পাথর ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট অব্যাহত থাকলে খাতে ধস নামবে। তারা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ - ইপেপার