একাত্তর ডেস্ক ::
একের পর এক চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসীর বৈঠকের পর উত্তেজিত জনতা চুরির অভিযোগ ওঠা দুই ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি টিনের ঘরের সামনে এক নারী তাঁর দুই বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে হামলা না করার জন্য অনুরোধ করছেন। এক হাতে রামদা নিয়ে তিনি লোকজনকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লোকজন তাঁর কথা না শুনে ঘরের দিকে ঢিল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে ওই নারী শিশুকে নামিয়ে রেখে রামদা হাতে লোকজনের দিকে তেড়ে যান। পরে অন্য একজন এসে নারী ও শিশুকে সরিয়ে নেন। এরপর লোকজন ঘরটি ভেঙে ফেলে। এভাবে দুটি ঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে এলাকার মোহাম্মদগঞ্জ বাজারে গ্রামবাসী বৈঠক করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দোলারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন বাজার কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ কুরশি গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসেন।
মো. আলী হোসেন জানান, কুরশি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে কিছু লোক চুরির সঙ্গে জড়িত। তাদের চুরি থেকে ফেরাতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে আটজনকে চিহ্নিত করে আর চুরি করবে না—এ মর্মে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতে উত্তর কুরশি গ্রামের দোলন মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির সময় পাশের মইনপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামকে (২৫) আটক করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও তিনজন পালিয়ে যান।
বুধবার সকালে এ ঘটনায় মোহাম্মদগঞ্জ বাজারে আবার বৈঠক হয়। বৈঠকে আটক সাইফুল ইসলাম স্বীকার করেন, তার সঙ্গে মইনপুর গ্রামের আবু হানিফা, দক্ষিণ কুরশি গ্রামের আলী হোসেন ও তারেক মিয়া ছিলেন। পরে উত্তেজিত লোকজন দক্ষিণ কুরশি গ্রামের আলী হোসেন ও তারেক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালান। দুটি ঘর প্রায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে হামলা থেকে ঘর রক্ষার চেষ্টা করা নারী তারেক মিয়ার স্ত্রী। তবে হামলায় তিনি বা শিশুটি আহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক সাইফুল ইসলামকে নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে মো. আলী হোসেন বলেন, বৈঠকে কারও বাড়িঘরে হামলার সিদ্ধান্ত হয়নি। আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ কিছু তরুণ উত্তেজিত হয়ে ওই ঘটনা ঘটায়।
দোলারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, সকালে বিষয়টি জানতে পেরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি পুলিশকে অবহিত করেছিলেন।
জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং চুরির অভিযোগে আটক সাইফুল ইসলামকে নিয়ে এসেছে। একটি চুরির মামলা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নামে আগেও একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তবে কারও বাড়িঘরে হামলা করা ঠিক হয়নি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















